স্কুলের পর এবার মাদ্রাসা শিক্ষকের কাছে ১২ ছাত্রী ধর্ষিত

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জে এবার ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণীর ১২ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী শিক্ষকের লালসার শিকার হয়েছে। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোঃ আল আমিনকে (৩৫) আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন মাহমুদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে র‌্যাব।
এর আগে গত ২৭ জুন পাশের এলাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কান্দাপাড়ার একটি বেসরকারী হাই স্কুলের ২০ এর অধিক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে দুই শিক্ষককে আটক করেছিল র‌্যাব-১১। গণমাধ্যমে এবং র‌্যাবের ফেইসবুক পেইজে ওই দুই শিক্ষককে আইনের আওতায় আনার সংবাদ দেখে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মা ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের অপকর্মের কথা ফেইসবুকে র‌্যাবের অতিঃ পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিনকে জানালে র‌্যাব ওই মেয়ের জবানবন্দী নিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে কৌশলে মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে।
র‌্যাব-১১’র সিও লেফটেন্যান্ট কাজী মোঃ শমশের উদ্দিন জানান, কিছুদিন পূর্বে সিরিয়াল রেপিস্ট আশরাফুল আরিফকে গ্রেফতারের ঘটনায় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি সংবাদের ভিডিও ক্লিপ ফেইসবুকে দেখতে পেয়ে গত দুইদিন পূর্বে বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর এক ছাত্রী এবং তার মা র‌্যাবকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষককে আটক করা হয়। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে ১২ জন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পড়তে আসা ছাত্রীদের বিভিন্ন কৌশলে কম্পিউটারে পর্ণ ভিডিও দেখিয়ে তাদেরকে ধর্ষণ করতো। তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি ও ধর্ষণ আইনে মামলা করা হবে।
গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মোঃ আল আমিন মাহমুদপুর এলাকার বাইতুল হুদা ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। একই সঙ্গে সে ফতুল্লা এলাকায় একটি মসজিদের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
এদিকে ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন অপকর্মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় শিক্ষকের ফাঁসির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয় এলাকাবাসী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন উপস্থিত অভিভাবকরা। ইমরান আলী সজিব নামে এক অভিভাবক বলেন, এখন প্রায়ই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। যেখানে মানুষ হওয়ার জন্য আমরা সন্তানদের পাঠাই। সেখানেই শিক্ষকের লালসার শিকার হয় সন্তানেরা। তাহলে আমরা কোথায়, কার কাছে সন্তানদের নিরাপদ বোধ করবো। এম এ শাহীন নামে আরেক অভিভাবক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই যদি নিরাপদ না হয়, তাহলে আমাদের সন্তানেরাও নিরাপদ নয়। আমরা এসব শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গার ও নরপিচাশদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই। এদের ফাঁসি হওয়া উচিৎ

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: