শিশু সামিয়া ধর্ষণের পর হত্যা: আটক ৫

বিশেষ প্রতিনিধি: শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাদের বাসার পাশের একটি নবনির্মিত ভবনটির ৯ তলার ফাঁকা ফ্ল্যাট থেকে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সামসুজ্জামান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওয়ারী থানা পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় ভবনের মালিক, বাসার দারোয়ান ও দারোয়ানের ছেলেসহ ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শনিবার দুপুরে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মার ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে তার শরীরে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। ধর্ষণের পর তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সায়মার বাবা আব্দুস সালাম গণমাধ্যমকে জানায় সন্ধ্যার পর ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার মাকে বলে ‘আমি উপরে পাশের ফ্ল্যাটে যাচ্ছি, একটু খেলাধুলা করতে।’ এরপর থেকে নিখোঁজ হয় সায়মা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ৯ তলায় খালি ফ্ল্যাটের ভেতরে গলায় রশি দিয়ে বাঁধা ও মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পাই।

সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত।

শনিবার সকালে শিশুর বাবা আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: