মসজিদের ঈমাম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার,(নিউজ বন্দর ২৪) : বন্দর উপজেলার মদনপুরের উত্তর চাঁনপুর নূরে জান্নাত ভূঁইয়াবাড়ী জামে মসজিদের ঈমাম জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নানা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুসল্লী সাংবাদিকদের জানান, জাহাঙ্গীর আলম সোনারগাঁও উপজেলার লাধুরচর চরপাড়ার বাসিন্দা এবং ২৮ বছর যাবৎ তিনি উক্ত মসজিদে ইমাম হিসেবে আছেন। আলিয়া মাদ্রাসা থেকে মাওলানা পদ অর্জন করলেও তিনি কামিল পাশ না করেও মাওলানা টাইটেল লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। জামায়াতের সক্রিয় সদস্য হবার মাধ্যমে চাঁনপুর এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ইমামতি করে যাচ্ছেন এবং এলাকার কিছু লোককে নিজের ভক্ত বানিয়ে তাদেরকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে প্রশাসনের চোঁখে ধূলো দিয়ে আড়ালে জামায়াতের কার্যক্রম বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে এখান থেকে কেউ সড়াতে পারবেনা বলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে বলে থাকেন।

তথ্য সুত্রে জানা যায়,স্থানীয় গ্রামের কয়েক বছর আগে মারা যাওয়া ফরিদ মিয়া, মোতালিব, গোলজার হোসেন, রমিজ উদ্দিন, সাত্তার, মোঃ হোসেন ভূইয়া, সালাম ভূইয়া, শামসুল হকসহ ৩৬জন মৃত ব্যক্তির নাম এখনো মসজিদের বেতনের খাতায় রয়ে গেছে,যাদের বিপরীতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মাসিক চাঁদাসহ প্রতি বছর তারাবীহ নামাযের চাঁদা নেয়া হয়। ৬ মাস আগে মাগরিবের সময় হুজারাখানার ভিতরে থাকা স্টিলের আলমারী থেকে মসজিদের দেড় লক্ষ টাকা চুরি হয় বলে তিনি মুসল্লীদের জানান কিন্তু চাবি তার কাছেই থাকে। মাগরিবের পর মসজিদে অবস্থান করা ২ জন মুসল্লী থাকলেও তারা আলমারী ভাঙ্গার কোন শব্দ পাননি এবং কাউকে মসজিদ থেকে বের হতে দেখেননি এমন বিষয় জানালে মুসল্লীরা এতে সন্দেহ হয় এবং মসজিদের টাকা কেন ইমামের কাছে থাকবে এবং তার বিভিন্ন দূর্নীতির বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বললে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন এবং দেড় লক্ষ টাকা মসজিদের ফান্ডে দিয়ে দেয়ার কথা জানান যা আদৌ পরিশোধ করেননি।

মুসল্লীরা আরও জানান যে, গেল ১ বছরে মসিজদের বাহিরের দানবাক্সে ৩ বার চুরি সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি জানান। যা তদন্ত করে মুসল্লীরা চুরির কোন প্রমাণ পায়নি বরং তিনিই চুরি সাজিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। জুম্মার দিন ৩-৪ হাজার টাকা মুসল্লীরা দান করলেও হিসেবের খাতায় ১ হাজার টাকা লিখে রাখা হয়। মসজিদের অর্থ ফেরৎ দিতে তাকে চাপ দিলে উল্টো তিনি মুসল্লীদের ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দিয়ে থাকেন। মসজিদের ফান্ড, দানবাক্সের সংগ্রহ, মাসিক চাঁদা সহ মসজিদের কোন অর্থের হিসেব তিনি দেন না। সংগ্রহ যা হয়েছে তার চেয়ে কম পরিমাণ অর্থ হিসেবে লিখে রাখা হয়েছে যার মাধ্যমে প্রায় ৭-৮ লক্ষ টাকার লোপাট করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা আশংকা করে যাচ্ছেন। মসজিদের ইমামরা সমগ্র দেশে ২-৩ মাসে ৩-৪ দিন ছুটি কাটালেও তিনি প্রতি সপ্তাহে ৩দিন বা তার চেয়ে বেশী ছুটি কাটিয়ে থাকেন। স্থানীয় গ্রামের কিছু লোককে তার সাথে নিয়ে তিনি সিন্ডিকেট বানিয়ে দুর্ণীতির মহা খেলায় মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি কুটকৌশল চালিয়ে সামাজিক একটি পক্ষের লোককে দিয়ে অন্য একটি পক্ষের লোককে সমাজচ্যুত করেছেন যারা এখন আর অত্র মসজিদে নামায পড়তে আসেনা। সামাজিকভাবে ধু¤্রজাল পাকিয়ে মুসল্লীদের ভিতরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করেছে এবং ইমাম জাহাঙ্গিরের দূর্নীতির বিষয়ে উক্ত এলাকায় মসজিদভিত্তিক যে কোন সময় একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছে স্থানীয়রা। ইসলামের স্বার্থে ও সমাজকে এ ধরণের ইমামের হাত থেকে রক্ষার্থে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মুসল্লীরা।

এ বিষয়ে উক্ত মসজিদের সভাপতি আব্দুর রউফের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইমাম সাহেবকে নিয়ে আমাদের সমাজে প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। সামাজিকভাবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু অভিযোগ পাইনি, সেহেতু বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমাম জাহাঙ্গির আলমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঈমাম জাহাঙ্গীর আলম “নিউজবন্দর২৪ডটকম”কে জানান, আমি কামিল ডিগ্রী অর্জন করিনি। আমি জামায়াতের সদস্য নই। মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের কাছ থেকে বেতন নেয়া হয়না। ৭৭ হাজার টাকা হুজারাখানা থেকে চুরি হয়েছে যা কমিটিকে জানানো হয়েছে। জুম্মার দিন একেক দিন একেক টাকা উঠে যা কমিটি অবগত আছে। আবার বিরোদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীণ।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: