ব্রহ্মপুত্র নদী ধ্বংস হচ্ছে ডাইং কারখানার বর্জ্যে

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ব্রহ্মপুত্র নদীর ধ্বংস হচ্ছে ডাইং কারখানার বর্জ্যরে পানিতে কিন্তু রক্ষা করার কেউ নেই। সরজমিনে ঘুরে দেখা যায় রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার ব্রাক্ষপুত্র নদীর তীর ঘেষে গড়ে তুলেছে কয়েকশত ডাইং কারখানা। এসকল ডাইং কারখানার বর্জ্যরে পানিতে বিলিন হচ্ছে নদীর দেশীয় মাছ, তেমনি হারাচ্ছে নাব্যতা, ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি। রূপগঞ্জ উপজেলার হোড়গাঁও এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাইং কারখানা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। কারখানাগুলো নামে বেনামে গড়ে উঠলেও প্রশাসনের নিরব ভ’মিকা এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এসকল অবৈধ ডাইং কারখানার নেই কোন বৈধ কাগজপত্র। মালিক পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানাগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। হোরগাঁও বাজারে ডাইং কারখানার ছবি তুলতে গেলে তাড়িয়ে আসে জাহাঙ্গীর নামে এক অবৈধ কারখানার মালিক। সে নিজেকে নেতা পরিচয় দিয়ে বলে উঠেন, আমার দুইটি ড্রাইং কারখানা আছে। আমি প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই কারখানা চালাই। খোঁজ নিয়ে জানা যায় নদীর তীরেই এই জাহাঙ্গীরের দুইটি কারখানা আছে। এছাড়াও শওকতের দুইটি, সমীর বাবুর একটি, রাজু, সুমন, সাইফুলের একটি করে ডাইং কারখানার খোঁজ মিললেও বাকি ডাইং কারখানাগুলোর কোন মালিক খুজে পাওয়া যায়নি। একদিকে বর্জ্যরে পানিতে ধ্বংস হচ্ছে নদী, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, বিলিন হচ্ছে দেশীয় মাছ, জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। পঁচা পানির র্দুগন্ধে এলাকাবাসী পড়ছে স্বাস্থ্য ঝুকিতে।
এই অবৈধ কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ভয়ে এলাকাবাসী কোন প্রতিবাদ করতে পারছেনা। এ বিষয়ে কথা হয় কারখানার মালিক জাহাঙ্গীরের সাথে। তিনি বলেন, আমার কয়েকটি কারখানা আছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ডাইং কারখানা চালাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আপনারা নিউজ করে কোন লাভ হবেনা।
এ ব্যাপারে হোড়গাঁও এলাকার আলী আকবর বলেন, এই ব্রহ্মপুত্র নদীতে এক সময় আমরা মাছ ধরতাম, গোসল করতাম, রান্নার কাজেও ব্যবহার করতাম। এখন এ পানির দূর্গন্ধে মানুষ কাছ দিয়েও হাটতে পারেনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, অবৈধ ডাইং কারখানার বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথাটি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: