ফতুল্লায় রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রেস কার্ডে বেপরোয়া দু’সহোদর প্রধান

ফতুল্লা(নিউজ বন্দর ২৪) : ফতুল্লা দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে ছোট ভাই খোকন প্রধান মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার দাতা হিসেবে চিহ্নিত হলেও তার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম প্রধান রেলষ্টেশন এলাকায় চাঁদাবাজীর শেল্টার দাতা হিসেবে পরিচিত অনেক আগেই। নির্বাচনের পর রফিকুল ইসলাম প্রধান রেলষ্টেশন দলীয় কার্যালয় বানিয়ে কর্মীদের দিয়ে ফুটপাত থেকে প্রতিদিন চাঁদা তুলে সে নিজে ভাগবাটোয়ারা করে আসছিল। চাঁদাবাজ ইউসুফ একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছিল কে কে চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত এবং ভাগবাটোয়ারা করত রফিক নিজে। এরপর থেকে চাঁদাতোলা বন্ধ করে দেয় । এরপর আওয়ামীলীগের নেতারা ক্লাবটি বন্ধ করে দেন। রফিকুল ইসলাম প্রধান ফতুল্লা ইউনিয়নের ১,২,৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্মসম্পাদক ও ছোটভাই খোকন প্রধান সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা টুডে টাইমস নামে একটি নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন ।
সম্প্রতি খোকন প্রধানের সাথে এক মাদক ব্যবসায়ীর মোবাইলে কথোপকথন ফাঁস হয়েছে। মোবাইলে কথোপকথনে খোকনের দাবি, তার দরবারের মুরিদ না হয়ে কেউ ফতুল্লা স্টেশন এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে পারে না। কথিত এই নামধারী সাংবাদিকের অডিও ফাঁস হওয়ার খবরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১৩ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে বেশ কয়েকবার তিনি মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছে। এছাড়া ফতুল্লা মডেল থানার ওসির সাথে তার কথা হয় এবং ওসি তার কথা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বলেও উল্লেখ করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন আমার দরবারের মুরিদ না হলে কেউ ফতুল্লা স্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা করতে পারেন না। সবাই আমার মাজারের মুরিদ হয়ে ব্যবসা করছে। এর আগে মুন্সিগঞ্জের এক ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মাধ্যমে তার মটর সাইকেল ও নগদ টাকা রেখে দিয়েছিল খোকন প্রধান ও তার সহযোগীরা। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার তৎকালিন ওসি(অপারেশন) মজিবুর রহমান স্টেশন রোডের পাকিস্তানি বিল্ডিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে খোকন প্রধানের ৩ সহযোগী টুটুল, শিশির, কালুকে গ্রেফতার ও মটর সাইকেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। তবে রহস্যজনক কারণে এ মামলা থেকে খোকন প্রধানের নাম বাদ দেয়া হয়। স্থানীয় মহলে খোকন প্রধান ফেন্সী খোকন নামেও পরিচিত। তার কোন আয়ের উৎস না থাকলে ও প্রায় তিনি ভারত ভ্রমন করে থাকেন। অডিও রেকর্ডে প্রামন হয় তিনি মাদক ব্যবসায়ীদের টাকায় ভারত ভ্রমন করেন।
এদিকে, নামধারী সাংবাদিক খোকন প্রধানের সাথে মাদক ব্যবসায়ীর মোবাইলে কথোপকথনের অডিও ও ব্ল্যাক মেইলিংয়ের ভিডিও ফাঁস হওয়ার খবরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা এলাকার মাদক বিক্রেতাদের পীর সাহেব ও আওয়ামীলীগ নেতা খোকন প্রধানের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা তা বন্ধ পাওয়া যায়।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: