প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যানের বিরোদ্ধে অসহায় শিক্ষকের সাংবাদিক সম্মেলণ

ফতুল্লা(নিউজ বন্দর ২৪) : ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ও প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেনের কারসাজিতে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্বেও স্কুলে যোগদান করতে পারেননি উক্ত বিদ্যালয়ের গনিত শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন ভূইয়া।
চাকুরীর মেয়াদ ৩০ এপ্রিল -২০১৯ পর্যন্ত রয়েছে। মানুষ গড়ার কারিগর যাদের বলা হয় তারই এক সহকর্মী প্রধান শিক্ষকের রোষানলে পড়ে জীবন হতে ১৭ টি বছর হারিয়ে ফেলেছেন ইসমাইল হোসেন ভূইয়া। এমনকি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দেখিয়ে গেছেন ক্ষমতার দাপট। সেই প্রধান শিক্ষককে শেল্টার দিয়ে গেছেন বিএনপির লোকদের সমন্ধয়ে গড়া ম্যানেজিং কমিটির অসাধু লোকজন।
শনিবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে সিনিয়র গনিত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন ভূইয়া জানান,জনপ্রিয় শিক্ষক হওয়ায় প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন,ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সহ কিছু অসাধু লোকের চক্ষু সুলে পরিনত হই।
১৯৯৪ সালে ৬ অক্টোবর মিথ্যা অভিযোগে বিদ্যালয় হতে অব্যাহতি দেয়। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ ২য় সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং-২৪/৯৫ দায়ের করলে আদালতে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমানীত হয়। আমার অব্যাহতি আদেশকে অবৈধ ঘোষনা করায় ১৯৯৮ সালে শেষভাগে আবার বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করি।
পূর্নরায় ২০০০ সালে ১ লা অক্টোবর হাস্যকর ও মিথ্যা অভিযোগে কারন দর্শাও নোটিশ জারী করে। যথাযথ লিখিত জবাব দিলেও ২০০২ সালের ১৬ জুন বিদ্যালয় হতে সাময়িক বরখাস্ত করে যা আজো বিদ্যমান আছে।
সাময়িক বরখাস্তের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে দেওয়ানী মোকদ্দমা নং- ১৮০/০২,পরবর্তীতে জেলাজজ আদালতে দেওয়ানী আপিল মামলা নং-১৯২/০৪ দায়ের করেন। ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত আমার বিরুদ্ধে কারন দর্শানোর নোটিশ ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশকে অবৈধ ঘোষনা করে। চাকুরীতে বহাল আছে মর্মে ঘোষনা দেন। আদালত উক্ত রায়ে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
আদালতের রায় থাকা সত্বেও ৪ বছর প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন,ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সহ কিছু অসাধু সদস্য বিদ্যালয়ে যোগদান করতে দেয়নি।
বাদীর রায়ের বিপক্ষে স্কুল কর্তৃপক্ষ ২০০৭ সালে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা নং- ১৩৬৫ দায়ের করেন।২০১৮ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্ট ইসমাইল হোসেনের পক্ষ রায় দেন এবং নিন্ম আদালতের রায় বহাল রাখেন।একই সালের ১৩ মার্চ প্রধান শিক্ষকের সাথে দেখা করে রায়ের কপি দেন এবং স্কুলে যোগদান করতে চাইলে রায়ের সাটি ফাইড কপি নিয়ে আসতে বলেন। রায়ের সাটিফাইড কপি নিয়ে ১/১২/২০১৮ ইং তারিখ আনোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করে যোগদান করার অনুমতি চাই।কিন্তু তিনি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে যোগদান করা নিয়ে ছলচাতুরী শুরু করতে থাকেন।
প্রতারক প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন গত ৬ এপ্রিল ইসমাইল কে জানান,হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সিএমপি-৭৪৫/১৮,মহামান্য আপিল বিভাগে সিপি নং-১২২০/১৯ দায়ের করেছেন। অথচ এই ২ টির সাথে ইসমাইলের মামলার কোন সম্পর্ক নাই। কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই বলে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভূইয়া।
অথচ ৮ বছর আগে আনোয়ার হোসেনের অবসরে যাওয়ার সময় শেষ হলেও ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন সরকারী বিধি নিষেধ অমান্য করে।
ইসমাইল হোসেন জানান,তার চাকুরী বয়স রয়েছে আর মাত্র ৩ দিন। আদালতের নির্দেশ মেনে সম্মানের সহিত অবসরে যেতে চাই।
পরিবার পরিজন নিয়ে নিধারুন কষ্টে জীবন যাপন করছেন গনিতের এই শিক্ষক। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে জাগো নারায়ণগঞ্জ ২৪.কমকে বলেন, আপনি অফিসে আসেন। মোবাইলে সব কথা বলা যায়না। কোর্টে আপিল থাকায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কিছু করতে পারছিনা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহ আলম,শফিউল আলম,মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: