নানা অনিয়মে চলছে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স,দেখার কেউ নেই

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে আশানুরূপ চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়না এমন অভিযোগ করেন দূর-দূরান্ত থেকে আগত একাধিক রোগীরা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন,দেখে মনে হয় না এটা হাসপাতাল। হাসপাতালটির অবস্থা খুবই নাজুক। নানা সমস্যায় জর্জরিত। দেখার যেন কেউ নাই। অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকলে ভূতুরে অবস্থার সৃষ্টি হয়। মূল ফটকের ও আবাসিক এরিয়ায় নৈশ্য প্রহরী না থাকায় রোগীর তুলনায় বহিরাগত মাদকসেবী,বিক্রেতা,মেয়ে-ছেলেদের আড্ডা,ছিচকে চোরসহ নানা শ্রেণীর লোকদের আনাগুনা করতে দেখা যায়। ডাক্তারদের অবহেলার পাশাপাশি রোগীদের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সঙ্কট। গ্যাস নেই। সারা দেশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি হলেও বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বাস্তব রুপ নেয়ার পর জনগনের যে আশা ছিল বর্তমানে চিকিৎসা সেবায় সর্ম্পন্ন উল্টো।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক ডাক্তারের রুমে তালা ঝুলছে। আগের তুলনায় বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা ও সরেজমিনে ঘুরে হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার চিত্র চোখে পড়ে। হাসপাতালের মূল ফটক ও আবাসিক এলাকার ফটক খোলা থাকে। দীর্ঘদিন যাবৎ নৈশ প্রহরী না থাকায় এ অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতালে উন্মুক্ত স্থানে বহিরাগত মেয়ে-ছেলেরা একসঙ্গে বসে আড্ডা দেয়। মনে হয় এটা মিনি পার্ক। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই হাসপাতালে ভিতরে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদে মাদক বিক্রির উপযুক্ত স্থান ভেবে সাপ্লাই দিয়ে থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে কোন নৈশ্য প্রহরী নেই। হাসপাতালের মূল ফটক ও আবাসিক ফটকে কোন প্রহরী বা দারোয়ান নেই। স্বাস্থ্য সহকারী লোকবলের সংকট রয়েছে । পূর্ব দিকের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করা হচ্ছে রোগীদের খাবার। হাসপাতালে বাবুর্চি থাকলেও নোরাং। নোংরা পোশাক পরিহিত অবস্থায় রান্না করা হচ্ছে । বর্তমান ৫০ শয্যা হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে ১৫/২০ জন এবং মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে ১৮ জন রোগী রয়েছে। বাকি শয্যাগুলো নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে। রোগীদের বেড কভার ও মশারী নোংরা। মেডিকেল অফিসারসহ অন্য ডাক্তাররা ব্যস্ত থাকেন নিজেদের ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারে।
ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত রোগী আবুলের মা খুশি আক্তার জানান, হাসপাতালের পরিবেশ নোংরা, বেডকভার নোংরা,টয়লেটে সব সময় ময়লা আর্বজনা জমে থাকে। সেখান থেকে ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ আসে। সব সময় খাবার পানি পাওয়া যায় না।

অপর এক রোগী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তাররা সেবা দিতে আসেন না। সকালে একবার ডাক্তারর আসলে সারাদিনে পাওয়া যায় না। রোগীরা ২-৩দিন থাকার পরই স্বেচ্ছায় চলে যেতে বাধ্য হন।

রোগী বাচ্চু জানান, যে খাবার দেয়া হয় তা আগের তুলনায় ভাল। সকালে ১টি পাউরুটি, ১টি কলা ও ১টি ডিম দেয়া হয়। তবে বেডের কাপড় ও মুশারী নোংরা। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে থাকতে হয়। মশা-মাছির যন্ত্রণায় ঘুমানো যায় না। নিয়মিত ওয়ার্ড পরিষ্কার করা হয় না। এ সব অব্যবস্থাপনার জন্য বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই রোগী।

টিকেট কাউন্টারে অনিয়ম: হাসপাতালে প্রবেশ করলেই টিকেট কাটতে হয়। টিকেটের মূল্য ৩ টা নির্ধারন করে দিলেও ৪/ ৫ এমনকি ভাংতি নেই এমন অযুহাতে ১০ টাকা নোট দিলেও ফেরত দেয় না বলে বৃদ্ধা রাহাতুন বেগম জানান। কাউন্টারে ২ জন থাকার নিয়ম থাকলেও গতকাল গিয়ে দেখা মিলে উল্টো। দুপুর ১২ টার দিকে টিকেট কাউন্টারে হারুন মিয়াকে পাওয়া যায়নি। বহিরাগত মিজানুর রহমান মিজান নামেট এক ভদ্রলোক টিকেট দিচ্ছে। টিকেট কাউন্টারের এরুপ দৃশ্যপট বৃদ্ধা রাহাতুন বেগম ইনচার্জ ডাঃ মোহাম্মদ আব্দুল কাদেরকে জানায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আগের তুলনায় কেমন চলছে। নিশ্চয় ভাল। আগামী ৩ মাসের মধ্যে আরো পরিবর্তন হবে। কোন অনিয়ম হলে সরাসরি আমার কাছে আসবেন।

ঔষধ বিতরনে অনিয়ম- বিভিন্ন ইউনিয়নের রোগীরা শত টাকা খরচ করে আসলেও ঔষধ মিলে গদবাধা, হিসটাসিন,প্যারাসিটামলসহ কমদামী ঔষধ। ডাক্তার শ্লিপে ঔষধের পরিমান বেশি লিখে দিলেও ঔষধ সরবরাহকারী পবিত্র বাবু করে অপবিত্র কাজ। ঔষধ কম দিলে প্রতিবাদ করলে পবিত্র বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে যান। কেউ ১০/১৫ টাকা দিলে তাকে ভাল ঔষধ দেয় এমন অভিযোগ তুলেন অসংখ্য রোগী। সন্ধ্যার পর পবিত্র বাবু নিজ ব্যাগে করে ঔষধ নিয়ে যায়। টাকা নেয়ার অভিযোগে পবিত্র বাবুকে কিছুদিন পূর্বে মেয়ের সমবয়সী একজনের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন ডাঃ আব্দুল কাদের।

স্টোর কিপার বোরহান, পবিত্র বাবুর যোগসাজশে দামী ঔষধ অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের সামনে হোন্ডা- গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতালের সামনে গেলেই দেখা মিলে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির হোন্ডা। যা নিয়ম বহিভূর্ত। সপ্তাহে ২ দিন তারা আসতে পারবে। তবে দুপুর ১২ টার পর। অন্যথায় প্রবেশ নিষেধ বলে ডাঃ আব্দুল কাদের জানান।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ ইমতিয়াজের অফিসিয়াল টেলিফোন নাম্বার (৭৬৪২৯৬৬ )নাম্বারে একাধিকবার আলাপ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: