কাউন্সিলর বাবুল সমর্থকদের উপর সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ সমর্থকদের হামলা,আহত-৩

স্টাফ রিপোর্টার(নিউজ বন্দর ২৪) : মহিলা মাদ্রাসায় পুরুষ ইমামের ইমামতিতে মহিলাদের জামায়াতে তারাবিহ নামায আদায়ের বিষয়ে গেল কয়েকদিন ধরে নাসিক ২৭নং ওয়ার্ডের কুড়িপাড়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। তার প্রেক্ষিতে রবিবার (১২ মে) বিকেলে ও সন্ধ্যায় ২৭নং ওয়ার্ডের উক্ত এলাকায় মারামারি, ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের মত ঘটনা ঘটেছে এবং বর্তমান কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল ও তার সমর্থকদের উপর সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায় এবং এতে ৩জন গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র মতে, উক্ত এলাকায় জান্নাতুল বানাত মহিলা মাদ্রাসায় একজন হাফেজ ইমামতি করে নারীদের জামায়াতের সহিত তারাবিহ পড়াচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে কাউন্সিলর বাবুল ও গণ্যমান্যরা শুক্রবার মাদ্রাসায় যান এবং যথেষ্ট পর্দার মধ্যে থেকে শরীয়াহ মোতাবেক নারীরা তারাবিহ নামায আদায় করছে বলে দেখতে পান এবং এভাবে নামায পড়ার বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন মুফতি ও আলেমরাও সহমত পোষণ করেন। কিন্তু উক্ত ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম শনিবার উক্ত মাদ্রাসার মালিক আশরাফকে ফোন করে জানিয়ে দেন এ তারাবিহ জামায়াত কোনভাবেই হতে পারবেনা। সেমতে নামায শনিবার বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে রোববার বিকেলে খোদাইবাড়ী জামে মসজিদের সম্মুখে মহিলা মাদ্রাসায় তারাবিহ নামাযের বিপক্ষরা কাউন্সিলরের সাথে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন এবং স্থানীয় এডভোকেট মাজাহারের ভাতিজা মহিউদ্দিন ও মুন্না কাউন্সিলরের উপর তেড়ে যান এবং তাকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করেন। এ বিষয়ে কাউন্সিলর বাবুল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে সন্ধ্যায় সিরাজ বাহিনীর লোকজন বাবুল কাউন্সিলরের ছেলে শাহাজাদা, মৃত বিলাত আলীর ছেলে হান্নান ও হান্নানের ছেলে কাওছারের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদেরকে আহত করে এবং স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় তৌহীদি জনতা ও মুসল্লীরা সাবেক কাউন্সিলর সিরাজের বাড়ীতে আক্রমন করতে গেলে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিতদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কাউন্সিলর বাবুল জানান, খোদাইবাড়ী জামে মসজিদের নির্মাণের সাথে যারা জড়িত তাদের নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন কাজে সুশিল সমাজ নিয়ে এলাকার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এতে সিরাজ ক্ষিপ্ত হচ্ছেন এবং তার কর্তৃত্ব চলে যাচেছ মনে করে জোর করে কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনতে এবং ধরে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় কুটকৌশল চালাচেছন। কখনো তিনি মজিবুর মেম্বার, কখনো আলাউদ্দিন এবং কখনো আমার বিরোধী শক্তিদের সাথে একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন নতুবা এলাকায় বিভিন্ন ঘটনার জন্ম দিচ্ছেন। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কেউ এলাকায় এমন খেলায় মেতে উঠে তা আমার জানা ছিলনা।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত কাউন্সিলর বাবুল আহতদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: