এমপির বক্তব্যের পর মুখ খুলছে সাধারণ মানুষ:গ্যাস চোরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের বক্তব্যে নড়েচড়ে বসেছে বন্দরের সাধারণ মানুষ। গত বৃহস্পতিবার বন্দর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎতের উপকেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমান বলেছিলেন, যারা চোরাই গ্যাস দিয়ে রান্না করে খানা খায় তারা হারাম খায়। বন্দরে যে ভাবে গ্যাসের অপচায় হয় সে গ্যাস দিয়ে ২শ’টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব। এ বক্তব্যে পর থেকে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার বিভিন্ন রেস্তোরা ও চা দোকানে এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। বন্দরের বাগবাড়ি এলাকার মোক্তার হোসেন জানান, বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। শুধু বাগবাড়ি এলাকায় রয়েছে ২শতাধিক অবৈধ সংযোগ রয়েছে যা গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাগিবাড়ির সুন্দর আলী ছেলে আজিজুল হকের বাড়িতে অবৈধ গ্যাসের লাইজার বিস্ফোরন ঘটে। এতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় ফায়ার সার্ভিস ও এলাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তখন ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করে। গত ২০ ফেব্রুযারি তিনি এলাকার ভয়াবহতা রক্ষার্থে তিতাস গ্যাস অফিসে লিখিত অভিযোগ করে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে। গত ১০ মার্চ তিতাস কর্তৃপক্ষের একটি টিম বাড়বাড়ি এসে ১৪টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগদাতা রমজান হোসেন, শাওন, নাইম, দ্বিন ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মিলে তিতাস গ্যাস টিমের উপর হামলা চালায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষ গত ১১ মার্চ অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এদিকে তিতাস অফিসে অভিযোগ করায় অবৈধ গ্যাস সংযোকারী চক্রের হোতা রমজান ও তার সহযোগি আহাম্মদ আলী মোক্তার হোসেনর ও তাহের আলী জমি জোরপূবর্ক দখল করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এঘটনায় জমি বিক্রেতা অহিদ হোসেন বাদি হয়ে গত ৪ জুলাই আদালতে মামলা করেন। আদালত এ মামলায় জমির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। এ মামলার জের ধরে দখলকারীরা ৬ জুলাই মোক্তার হোসেন ও তার চাচাতো ভাই কিয়াম উদ্দিনের দোকানসহ বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। হামলার ঘটনায় মামলা করায় আসামীরা বন্দর থানায় সাজানো মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে গত ১১ জুলাই আদালতে এমদাদুল হক মিলন নামে এক ব্যক্তিকে বাদী বানিয়ে আদালতে একটি চাঁদাবাজির পিটিশন দায়ের করে। বর্তমানে এ পিটিশনটি সদর থানায় তদন্ততাধীন রয়েছে। এ ভাবে অবৈধ গ্যাসের বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার ফলে নিরিহ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। মোক্তার হোসেন আরো জনান, বাড়বাড়ি এলাকার গ্যাস চোররা অবৈধ গ্যাস দিয়ে প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। যা সরকারের বড় ধরনে রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। এ ভাবে বন্দরে কত কোটি টাকা অবৈধ গ্যাস দিয়ে হাতিয়ে নিয়ে গ্যাস চোররা তার হিসেব নেই। তাহের মিয়া বলেন আমরা সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য সোচ্চার হওয়ায় আমাদের বলা হচ্ছে চাঁদাবাজ। এ বিষয়টি আমরা সঠিক তদন্ত করে অবৈধ গ্যাস সংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জরুরী হস্তক্ষেপ কামণা করছি এমপিসহ ডিসি এসপির প্রতি। বন্দর থেকে অবৈধ গ্যাস উচ্ছেদ হলে বৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাবেন। আমরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সরকারের উন্নয়নের অংশিদার হয়ে থাকতে চাই। আশা করি সরকার অচিরেই অবৈধ গ্যাস বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু করবে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: