আড়াইহাজারে শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: দেশব্যাপী শিশু ও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মানববন্ধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে সরকারী সফর আলী কলেজের সামনে ‘হোয়াইট ব্লাক’ নামে ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

ওঠো, চোখ খোল, জাগো ধর্ষণের বিরুদ্ধে। ধর্ষণ নারীর লজ্জা নয়, পুরুষ তুমি মানুষ হও। শিশুরা হাসবে খেলবে, ধর্ষণ হবে কেন? আসুন ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। আমার মা, আমার বোন ধর্ষণ রোধে সোচ্চার হোন। নারী হওয়া কী অপরাধ। ধর্ষক কোন মানুষ নয়, সে পশু সকলে কয়। সামাজিকভাবে ধর্ষণকে বয়কট করুন। ধর্ষণের কোন সামাজিক, রাজনৈতিক পরিচয় নাই। ধর্ষণের শেকড় এবার ফেলুন উপড়ে। এ রকম স্লোগান লেখা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ব্যানার হাতে নিয়ে দেশব্যাপী চলা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে মানববন্ধনকারীরা। মানববন্ধনে আলোর পথযাত্রী পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সমকালের সাংবাদিক সফুরউদ্দিন প্রভাত, সাবেক ভিপি শফিকুল ইসলাম শরীফ, কবি ও সাহিত্যিক মোশাররফ মাতুব্বর, সায়েম অনিন্দ্য, মোয়াজ্জেম বিন আউয়াল, মহিতুল ইসলাম হিরু, হোয়াইট ব্লাকের পরিচালক অরণ্য সৌরভ, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদসহ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়।

সাংবাদিক সফুরউদ্দিন প্রভাত বলেন, তরুণরা জেগে উঠার মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর সমাজ, রাষ্ট্র পেতে পারি। নারী জাতি আমাদের মা-বোন, তাদের সহিংসতার বিরুদ্ধে সকলে এক কাতারে দাঁড়ালে অবশ্যই নারী ও শিশু নির্যাতনের মাত্রা কমে যাবে।

স্টাফ করসপন্ডেন্ট সুমন মজুমদার বলেন, আমাদের নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের জয়জয়কার। আমাদের নৈতিক শিক্ষার খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জেগে উঠার মাধ্যমেই এর প্রতিকার হতে পারে।

হোয়াইট ব্লাক সংগঠনের সংগঠনের সভাপতি মহিতুল ইসলাম হিরু বলেন, নারীর পোষাক নয়, আমাদের মানুষরূপী পশুগুলোর মানসিকতাই এর জন্য দায়ী। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

সংগঠনের পরিচালক অরণ্য সৌরভ বলেন, আমাদেরকে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ও সচেতনতার মাধ্যমে এ ব্যাধিটাকে সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। আমাদের এই অসুস্থ সমাজে শুধু নারী বা শিশু নয়, আমরা কেউই নিরাপদ না। সবার চোখ, কান খোলা রেখে রুখে দাঁড়ালে, সচেতন হলে ধর্ষণের মতো অপকর্ম দূর হবে বলে আশা করি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রযন্ত্রের নীতি নির্ধারকদের ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আরো সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কঠোর অবস্থান নিতে হবে, তাহলে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপকর্ম সমাজ থেকে বিনাশ হবে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: