আড়াইহাজারে ছাত্রলীগ পুলিশ হাতাহাতি, ৩ পুলিশ ও ২ ছাত্রলীগ নেতা আহত আটক-২

আড়াইহাজার প্রতিনিধি (নিউজ বন্দর ২৪) : আড়াইহাজারে এক কলেজ ছাত্রকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ পুলিশ পুলিশ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকসহ ৫জন আহত হয়েছে।
বুধবার (১৭এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোপালদী পৌরসভাধীন গোপালদী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে এ ঘটনাটি ঘটে।
জানাগেছে, দুপুরে গোপালদী পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মামুন মিয়া গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের এইচ এস সির এক পরীক্ষার্থী দিদার হোসেন(১৮)কে আটক করে গোপালদী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। এ খবর দিদার মোবাইল ফোনে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুজয় সাহাকে জানায়। খবর পেয়ে সুজয় সাহা ফাঁড়িতে গিয়ে এটিএসআই মামুন মিয়াকে দিদারকে কেন আটক করা হয়েছে তা জানতে চায়। ঐ সময় ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ও এটিএসআই মামুন মিয়ার মধ্যে তর্কবিতর্ক ও পরে হাতাহাতি হয়। পরে গোপালদী ফাঁড়ি পুলিশ সুজয়কে আটক করে পিটুনী দিয়ে আটক করে। পরে খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন গোপালদী ফাঁড়িতে গিয়ে আটক ছাত্রলীগ নেতা সুজয় ও দিদারকে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে আসে।
আটককৃত ছাত্রলীগ নেতা সুজয় সাহা জানান,কোন অভিযোগ ছাড়াই পরীক্ষার্থী দিদারকে কলেজ থেকে আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবী করে এটিএসআই মামুন মিয়া। দিদারকে আটকের খবর পেয়ে সে নিজেই ফাঁড়িতে গিয়ে আটকের কারন জানতে চাইলে তাকে ফাঁড়িতে আটক করে ৩/৪জন পুলিশ মিলে তাকে পিটিয়ে চোখ বেঁধে থানায় নিয়ে গিয়ে সেখানেও ওসির নেতৃত্বে ৬/৭জনে মিলে আবারো তাকে বেদম মারধর করে পুলিশ।
অপরদিকে এটিএসআই মামুন মিয়া জানান, ইভটিজিংয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের সামনে থেকে দিদারকে ডেকে ফাড়িতে নিয়ে আসি। পরে তার পিতা-মাতাকে ফাঁড়িতে আনার জন্য দিদারকে বললে সে সুজয়কে খবর দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। সুজয় থানায় এসে তার সাথে তর্কে লিপ্ত হয় এবং তাকে সহ পুলিশ কনষ্টেবল ইয়ানুছ ও আবুল বাশারকে কিল থাপ্পর দিতে থাকে।
পরে সে সহ ২ পুলিশ সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় এবং আবুল বাশার প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অপর দিকে ওসি আক্তার হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসক নিয়ে আহত ছাত্রলীগ নেতাদের থানায় চিকিৎসা করার।
এ ঘটনায় বুধবার বিকাল ৫টার দিকে সরকারী সফর আলী কলেজের ভিপি শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে সরকারী সফর আলী কলেজ ও গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের শতশত ছাত্ররা গোপালদী পুলিশ ফাঁড়ি ও আড়াইহাজার থানায় ছাত্রলীগ নেতা সুজয় সাহাকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় ওসি আক্তার হোসেন ও এটিএসআই মামুন মিয়া এর প্রত্যারের দাবীতে থানা ঘেরাও ও থানার গেইটের সামনে বিক্ষোভ করে। পরে ওসি আক্তার হোসেন সেখান থেকে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন অর রশিদ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সহ সিনিয়র ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে থানায় তার অফিস কক্ষে আলোচনায় বসেন। সন্ধ্যায় থানা থেকে ছাত্রলীগ নেতা সুজয় সাহা ও কলেজ ছাত্র দিদারকে পুলিশ ছেড়ে দেয়। ছাত্রলীগ নেতাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি এটিএসআই মামুন মিয়া ও কনষ্টেবল ইয়ানুছ নিজ জিম্বায় হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে কর্তর্বরত নার্স তাছলিমা জানান।
আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন প্রথমে দিদারকে মাদকসহ গ্রেফতারের কথা জানালেও সন্ধ্যায় তিনি বলেন,পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা সুজয় সাহা ও দিদারের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: