আড়াইহাজারে অবৈধ খাদ্য তৈরীর কারখানাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ,আহত ১৫

প্রতিনিধি আড়াইহাজার(নিউজ বন্দর ২৪) : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবৈধ খাদ্য তৈরীর কারখানাকে কেন্দ্র করে দুই কারখানার মালিক যুবলীগ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে একটি পিকাপ,একটি বাড়িতে চালানো হয়েছে লুটপাট।  রবিবার (১৪এপ্রিল) বিকাল ৫টায় উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ষাড়পাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ষাড়পাড়া এলাকার নুরুল আমিনের ছেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মুঞ্জুর হোসেন ও মৃত আফর উদ্দিনের ছেলে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নান্নু মিয়া দীর্ঘ প্রায় ৮বছর যাবৎ সরকার অনুমোদন বিহীন ভুট্টার মিস্টি খই,চিপস,আইস ললি ও আইসক্রীম কারখানা বসিয়ে ব্যবসা করে আসছিল।
সম্প্রতি নরসিংদী এলাকার মিঠুন নামে এক ক্রেতা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নান্নু মিয়া কারখানা থেকে বাকীতে মাল ক্রয় করে টাকা দিতে গড়িমসি করে। ১৪এপ্রিল রবিবার বিকালে মিঠুনের নিকট যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেন বাকীতে মাল বিক্রয় করে। এ নিয়ে মুঞ্জুর হোসেন ও নান্নু মিয়ার মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নান্নু মিয়া ও তার লোকজন ধারালো দা,ছোরা,হকিষ্টিক নিয়ে যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। ঐ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ৩০ মিনিট ব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পেক্ষর আন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আহত মুঞ্জুর হোসেন(৩৫), নান্নু মিয়া (৩৬), লিপি আক্তার (৪০), মনির হোসেন (৪০), নজরুল (৪৫), ইয়াছিন(৩৫),বিলকিছ আক্তার(৩৫),মজিবুর(৪৫),বাবুল মিয়া(৫২),শামীম মিয়া(২০) ও আলেয়া বেগম (২৮) কে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। ঐ সময় যুবলীগ নেতা মুঞ্জুর হোসেনের বাড়িতে ভাংচুড় ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে মুঞ্জুর হোসেন জানান।

অপরদিকে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নান্নু মিয়া অভিযোগ করেন,তার ব্যবসা বন্ধ করার জন্য মুঞ্জুর হোসেন তার ক্রেতাদের কাছে কম দামে ও বাকীতে মাল বিক্রি করছে। ঘটনার দিন তার কারখানায় মাল নিতে আসা একটি পিকাপ মুঞ্জুর ও তার লোকজন ভাংচুর করে বলে জানান।

আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: