” আম্মা আমি রাহেলা ,ঐ যে আমারে ঘর দিছেননি,১১নম্বর ঘরটা আমি সেই রাহেলা

ভূমিহীণ-গৃহহীণদের পিঠা-পুলির গল্প নিয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুক্লা সরকারের দেয়া একটি পোস্ট সর্বত্রই বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৭মিনিটে ‍‘‘উপজেলা প্রশাসন বন্দর’’ ফেসবুক আইডি থেকে যে পোস্টটি করা হয় সেটিতে আবেগ আর মানবতার চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বর্ণণায় ভূমিহীণ এবং গৃহহীণদের জন্য প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ঘরগুলো যেনো অসহায় মানুষগুলোর জীবনে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর ওই পোষ্টে ” আম্মা আমি রাহেলা ,ঐ যে আমারে ঘর দিছেননি আমি সেই রাহেলা ,১১নম্বর ঘরটা আমার । আম্মা আপনার জন্য পিঠা বানাই আনছি নতুন বাড়িতে আপনি ছোট আম্মা (এসি ল্যান্ড) রে নিয়া আইবেন কখন ?” এসব কথাগুলো অনেকটা হৃদয়ে দাগ কাটার মতো। পাঠকের অনুরোধে নিচে বন্দর ইউএনও শুক্লা সরকারের স্ট্যটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

দুপুর দুইটার দিকে ইউপি সচিবের নম্বর থেকে ফোন , হ্যালো বলতেই ঐ প্রান্তে ,” আম্মা আমি রাহেলা ,ঐ যে আমারে ঘর দিছেননি আমি সেই রাহেলা ,১১নম্বর ঘরটা আমার । আম্মা আপনার জন্য পিঠা বানাই আনছি নতুন বাড়িতে আপনি ছোট আম্মা (এসি ল্যান্ড) রে নিয়া আইবেন কখন ?”এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললেন । বললাম আমি আসতেছি আপনার ছোট আম্মারে নিয়া । আমার পাশের জন রাহেলা বেগম । বয়স দেখে আন্দাজ করা যায় । স্বামী মারা গেছে অনেকবছর , দুই মেয়ে বিয়ে হয়েছে তাদের নিজেদেরই চলে না ।রাহেলা বেগম পিঠা বিক্রি করেন ,একটা ছাপড়া ঘরে ভাড়া থাকেন। যে নির্মানধীন ঘরের বারান্দায় আমরা বসে পিঠা খাচ্ছি এটা রাহেলাকে দেয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ,১১ নম্বর বাড়ি ! এখনো কাজ শেষ হয়নি কিন্তু কত মায়া রাহেলা বেগমের! এসি ল্যান্ডের পাশে বসা রেনু তারও রাহেলা বেগমের মত অবস্থা কিন্তু তারা এখন দুই শতাংশ জমি এবং একটি ছোট্ট বাড়ির মালিক ! প্রতিদিন সারাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ইউএনও দের ওয়ালে দেখি রঙ্গিন সব ঘর ! সব ঘরের রঙ্গিন সব স্বপ্ন ! স্বপ্ন সত্যি হবার গল্প ! অন্য উপজেলার তুলনায় আমার উপজেলায় ঘরের সংখ্যা কম ৩৫ টি কিন্তু ৩৫ জন মানুষের ভালবাসা সব ছাপিয়ে দিয়েছে ।অনুভব করি আমার সহকর্মীরা এর মধ্য দিয়ে কত মানুষের দোয়া নিয়ে যাচ্ছে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই মানুষগুলো প্রাণ ভরে দোয়া করে। এই ভূমি/গৃহহীন মানুষগুলো যখন তাদের স্বপ্নের দেয়াল ছুঁয়ে দেখে , নতুন আনা লাল/সবুজ টিন। গুলো ছুঁয়ে দেখে ওদের চোখে সুখ ছিটকে পড়ে । মনের ভিতরের খুশি তারা চেপে রাখতে পারে না , বলে ফেলে ! আমি , আমরা কৃতজ্ঞ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এই দোয়া পাওয়ার বিশাল সুযোগে তিনি আমাদের যুক্ত করেছেন ।দিনশেষে রাহেলা বেগম আর রেনু খাতুনের মত মানুষের আমাদের জন্য নিজ হাতে পিঠা বানিয়ে খাওয়ানোর এই ভালবাসা শুধু ভালবাসা না আমাদের সবচেয়ে বড় পুরষ্কার !!!

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: