আতংকের নাম গণপিটুনী

স্টাফ রিপোর্টার(নিউজ বন্দর ২৪): ছেলেধরা গুজব দেশজুড়ে এখন চরম আতংকের নাম। যা গণপিটুনীতে পরিণত হয়েছে। আর এ ছেলেধরা গুজবে ভাসছে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা। শিশুচোর বা ছেলেধরা গুজব আর সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষকে গণপিটুনী দেয়া এবং এরই মধ্যে অনেকের প্রাণ হারানোর খবর এখন আমাদের দেশের জনমনে এক ভীতিকর অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে এ গুজবের শিকার হয়েছে অনেকে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে আরো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ গুজবের হাত থেকে নিরাপদ থাকতে সতর্কমূলক এ স্টেপগুলো গ্রহণ করুন ।

১. কিছুদিন অপরিচিত এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

২. অপরিচিত এলাকায় গেলে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক উদভ্রান্তের মতো তাঁকানো থেকে বিরত থাকুন।

৩. কাউকে খুঁজতে গেলে, তার সাথে পূর্বেই যোগাযোগ করে নিন, সারপ্রাইজ দিতে কিংবা কোন কারণেই তাকে না জানিয়ে যাবেন না।

৪. নিজের বাচ্চাকে তার মাকে ছাড়া কোথাও নিয়ে যাবেন না। বিশেষ করে, যেসব বাচ্চারা ছিচ কাঁদুনে এবং খালি বায়না ধরে তাদের নিয়ে কয়েকটা দিনের জন্য বাহিরে বের হবেন না।

৫. যদি চাকুরিজীবী হন, তবে প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড সাথে রাখুন, প্রয়োজনে অপরিচিত এলাকায় গেলে গলায় ঝুলিয়ে রাখুন।

৬. কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে থতমত খাবেন না, কনফিডেন্ট/সহজভাবে উত্তর দিন। ভাব নিতে যাবেন না। ৭. পথে ঘাটে কারো সাথে উটকো ঝামেলায় জড়াবেন না।

৮. এ ধরণের ঘটনা দেখলে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে পুলিশকে জানান।

৯. যদি আপনি কোন এলাকায় নতুন হোন ( আপনাকে যদি কেউ না চিনে থাকে), তাহলে কর্মক্ষেত্র থেকে সরাসরি বাসায় চলে যান।

১০. সর্বোপরি, এ অবস্থার দ্রুতই অবসান হবে আশা করি। তাই আতঙ্কিত হবেন না।

১১. পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করুন এবং হাতে কোন ছালা (চটের বস্তা) জাতীয় ব্যাগ নিয়ে ঘুরবেন না। কথাগুলো হয়তো সমসাময়িক সময়ে উপকারে আসতে পারে।

কেননা বেশ কিছুদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাক্তিগত আইডি এবং ফেসবুক পেজ থেকে এ সব গুজব রটানো হয়েছে বলে জানা যায়। পদ্মা সেতুতে মাথার প্রয়োজন এমন গুজবে দেশজুড়ে আতঙ্কের নাম এখন গণপিটুনী। মাছ বিক্রেতা, স্কুলে মেয়েকে পড়ানোর জন্য তথ্য খুঁজতে গিয়ে প্রাণ হারানো মা, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি কেউই রেহাই পাননি এই জনরোষ থেকে। সবাইকে অকাল মৃত্যুর স্বাদ বরণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশে সেতু নির্মাণ বা এ রকম বড় কোন স্থাপনা নির্মাণ কাজে নরবলির গুজব নতুন নয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিশ কেন্দ্রের এক হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসেই গণপিটুনীতে মারা গেছেন ৩৬জন। আর গত চার দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭জন। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য মানুষের মাথা লাগবে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে তার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি গুজবের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকতে বলা হয়। সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে ঐ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে ব্রিজ নির্মাণে মানুষের মাথা প্রয়োজন হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব। গুজব ছড়িয়ে একটি মহল জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এতে ভবঘুরে, নিরীহ ও অপরিচিত ব্যক্তি মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: