অভিভাবক সচেতন হলে সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হয়-গিয়াসউদ্দিন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ একাদশ শ্রেনির ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের অংশগ্রহনে প্রথম বারের মতো অভিভাবক দিবস পালন করেছে গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজ। শনিবার (৬ জুলাই) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের হিরাঝিলস্থ কলেজটির নিজস্ব অডিটোরিয়ামে অভিভাবকদের অংশগ্রহণে এ দিবস উদযাপন করা হয়। গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল কলেজে উপাধ্যক্ষ মীর মোসাদ্দেক হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্বা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনি তার আলোচনায় বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ রূপে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয়টা অত্যন্ত জরুরী। তবে, শিক্ষকদের তুলনায় অভিভাবকদের গুরুত্ব এ ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি। কেননা, একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কলেজে থাকবে আর বাকি ১৯ ঘণ্টাই সে বাড়িতে থাকবে। ফলে তাকে সম্পূর্ণ গাইডলাইন দেওয়া এবং সে কি করে, কোথায় যায়, কার সাথে মিশে, ঠিক মতো পড়াশোনা করছে কিনা, সে দিকটি অভিভাবকদেরকেই নজর রাখতে হবে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, অভিভাবকেরা যদি সচেতন হয় তাহলে সন্তান নিশ্চিত ভালো হবে, সুন্দর ভবিষ্যতের দিকেই সে এগিয়ে যাবে। তাই প্রতিটি সন্তানের প্রতি তার বাবা-মাকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। সন্তানদেরকে সময় দিতে হবে। তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলোকে বিবেচনায় রেখে মূল্যায়ন করতে হবে। নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। অভিভাবক যদি তার সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেন তবে, সে শিক্ষিত অবশ্যই হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আজকাল অনেক সন্তানই বিপথে চলে যায়। মাদকের সাথে সন্ধি করে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাই তাদের চলাফেরা, গতিবিধি, কার সাথে মিশে এবং কোথায় যায় সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। আর অবশ্যই শিক্ষকদের সাথে অভিভাবকদের একটা সমন্বয় থাকতে হবে। কলেজে আসছে যাচ্ছে আপনার সন্তান সেখানে থেকে সে কি পাচ্ছে, কি পাচ্ছে না সে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কোথায় তার ঘাটতি সে নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করুন।গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের শতভাগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ইহকাল এবং পরকালের শিক্ষা দিয়ে থাকি। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকে না। যার কারণে প্রতিবছরই আমরা অন্যান্য কলেজ থেকে ভালো ফলাফল পেয়ে থাকি। ভালো করেছি, করছি ভেবে নিয়েই আমরা বসে থাকি না, আমাদের শিক্ষকেরা প্রতিমুহূর্তেই আপডেট হচ্ছেন। কীভাবে আরও ভালো করা যায়। কীভাবে কোনো শিক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে উন্নত জীবনের দিকে নিয়ে যেতে পারে সে নিয়ে আমরা প্রতিমুহূর্তেই ভাবি। তাই বোধ করি, ভালো কিছু করতে হলে অভিভাবকদের সাথে আমাদের সমন্বয়টা জরুরী। সেই বোধ থেকেই এই অভিভাবক দিবস। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন গিয়াসউদ্দিন ইসলামিক মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ইঞ্জিঃ ইকবাল আতাহার, শিশির ঘোষ অমর, আবুল হোসেন, রিফাত হোসেন ও রাজিব আহাম্মেদ প্রমূখ।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: