২০’র অধিক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় দুই শিক্ষক ৭ দিনের রিমান্ডে

মহানগর(নিউজ বন্দর ২৪) :  নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে অক্সফোর্ড হাই স্কুল নামক একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইলিং করে ২০ জনেরও অধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুল ও মদদদাতা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শনিবার (২৯ জুন) বিকালে রিমান্ড শুনানী শেষে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ হুমায়ুনের আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আসামীদেরকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তরের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দু’টি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামছুল আলম।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামছুল আলম জানায়, শনিবার দুপুরে পৃথক দু’টি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে ওই দুই শিক্ষককে আদালতে প্রেরণ কর হয়। আদালত রিমান্ড শুনানী শেষে পৃথক দু’টি মামলায় সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুলকে ৩ দিন করে ৬দিন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার (৫৫) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি কান্দাপাড়া মাদ্রাসা রোড এলাকায় অবস্থিত অক্সফোর্ড হাই স্কুলে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্লাকমেইলিং করে ২০ জনেরও অধিক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম সরকার ওরফে আশরাফুল (৩০) ও প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার (৫৫) কে গনধোলাই দেয় বিক্ষুব্দ স্থানীয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে র‌্যাব-১১’র সহকারী পরিচালক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিন বিপিএম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজসহ কয়েকটি টিম পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হন। গ্রেফতারের পর শিক্ষক আরিফের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস জব্দ করে পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিশ জনেরও বেশি ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়ায় দুপুরে র‌্যাব তাদেরকে কার্য্যালয়ে নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষক এ বিষয়টি স্বীকার করে। পরে শুক্রবার (২৮ জুন) বিকালে র‌্যাব-১১’র ডিএডি আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দুজনকে আসামী করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের শেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে। এছাও অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন স্কুলের নির্যাতিত এক ছাত্রীর পরিবার। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত র‌্যাবের মামলাটিতে অনৈতিক কাজে মদদ দেয়ার অপরাধে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা দু’টির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামছুল আলম।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: