সোনারগাঁয়ে চটপটি দোকান থেকে বিএনপি নেতা রমজান সরকারের চাদাঁবাজির অভিযোগ

সোনারগাঁ প্রতিনিধি : রায়নগঞ্জ  সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী অলিপুরা রাবারড্যাম অবস্থিত সরকারী সম্পত্তিতে চটপটির দোকান বসিয়ে বি এন পি নেতার চাঁদাবাজীর অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে।

সরেজমিনে পাওয়া যায় বি এন পি সরকারের আমলে অধ্যাপক রেজাউল করিম জনগনের চলাচলের সুবিধার্থে অলিপুরা টু কাজহরদী ব্রন্মপুত্র নদের উপর একটি ব্রীজ নির্মান করে। সেই সাথে উত্তর এলাকার কৃষিকাজের জন্য কৃষকের ন্যায্য পানি পাওয়ার সুবিধায় রাবারড্যাম তৈরী করেন। রাবারড্যামটি  সমবায় মন্ত্রনালয়ের  তত্বাবধানে স্থানীয় কৃষকদের সমিতি ভিত্তিক তত্বাবধানে। নিয়ম অনুযায়ী রাবারড্যাম এলাকায় স্বায়ী কোন দোকানপাট উঠাতে পারবেনা। এমনকি সমিতির কেউ ভাসমান দোকান থেকে চাঁদা উঠাতে পারবেনা। তবে এলাকার ফখরুদ্দীন নামে এক চটপটিওয়ালা ভ্যান গাড়িতে করে দীর্ঘদিন ধরে  চটপতি বিক্রি করে আসছে। সেই সাথে আশেপাশের জায়গা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখছে। চটপটি বিক্রির আয়ের উৎস হতে তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে কোন রকম সংসার চালাত। গত কমিটির পক্ষে সভাপতি ইব্রাহীম অসহায় ফখরুদ্দীনের পরিবারের কথা বিবেচনা করে তাকে এ সুযোগটুকু দিয়েছিল। কিন্তুু বর্তমান কমিটির সভাপতি রমজান সরকারের লোভ চলে আসে গরীব নিরীহ চটপটির দোকানের উপর। কায়দা করে তাকে উঠিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে চটপটির দোকানদার ফখরুদ্দীনের কাছ থেকে গোপনে চার কিস্তিতে নগদ ত্রিশ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তী আরো পনের হাজার টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা হইতে পাঁচ হাজার টাকা দেয়ায় রমজান সরকারের মন জয় করতে পারেনি ফখরুদ্দীন। ফলে তাকে সরিয়ে আনোয়ার নামে একজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা এডভান্স নিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে টিনসেট ঘর তৈরী করে দেয় রমজান সরকার।

এ ব্যাপারে রমজান সরকারের সাথে কথা বললে তিনি জানায় কোন ভাড়া নয়। আমি নিজেই চটপটির দোকান দিয়েছি। আর তা নিজেই দেখাশোনা করব। তার কাছ থেকে যা আয় হবে তা সমিতির উন্নয়নের কাজ করব। এদিকে থানা নির্বাহী অফিসার অন্জন সরকার বলেন রাবারড্যাম যেহেতু সরকারী সম্পদ সেখানে অনিমতি ছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন কোন স্থায়ী দোকানপাট করা যাবে না। যদি এমন কেউ করে থাকে তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা সমবায় অফসার বলেন সরকারের অনুমতি ব্যতীত স্থায়ী দোকান তৈরী করা সম্পূর্ন নিষেধ। তবে কেউ যদি এমন করে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান জিন্নাহ্ বলেন রমজান সরকারের ব্যপারে যে অভিযোগ তা সম্পু্ূর্ন সত্য বলে জানতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন এব্যাপারে ইউ এনও সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এদিকে  রমজান সরকারের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে। নদী দিয়ে বালি নেয়ার সময় প্রতিটি ট্রলার থেকে তিন থেকে চারশত টাকা আদায় করে থাকে। শুকনা মৌসুমে ট্রলার যাতায়াত করতে দেয়ায় রাবারড্যামটি কয়েক জাগায় ফুটু হয়ে গেছে। তাছাড়া বি এন পি জামাত শিবিরের লোকজন প্রতিনিয়ত আড্ডা করে। সারা রাতই চলে মাদক আর জুয়ার আড্ডা। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে বি এন পি নেতা রমজান সরকারের ক্ষমতার দাপটে নিরীহ চটপটির দোকানদার পর্যন্ত দিশেহারা। সামান্য একজন চটপটি ব্যবসায়ী ফখরুদ্দীনের পেটে লাথি মারার মত।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: