সিদ্ধিরগঞ্জে মিতালী মার্কেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৯৯০ইং সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম বৃহৎ মিতালী মার্কেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কমিটির নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডস্থ মার্কেট অফিসে এ সংবাদ সম্মেল করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মার্কেটের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ছায়েদ শিপন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেট পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী ইয়াছিন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফৈরদৌস আহামেদ, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া রাজু, হাজী মোঃ সিরাজ উদ দৌলা, বাবুল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও দপ্তর সম্পাদক খোকন আহমেদসহ অন্যান্য নের্তৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মিতালী মার্কেটের (রেজি: নং- ঢাকা-১৬৯৮) সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ভূমিদস্যু ফারুক ও জামান নির্বাচিত কমিটি নিয়ে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারা উচ্চ আদালতে মামলা করে ১ বছর নির্বাচিত কমিটিকে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রেখেছে। রফিকুল ইসলাম মার্কেটের সভাপতি থাকাকালিন ভূমিদস্যু ফারুক ও জামানকে নিয়ে মার্কেটের সদস্যদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। রফিকুল ইসলাম সাধারণ সদস্যদের টাকায় জমি কিনে পার্ক স্কুল এন্ড কলেজ নির্মান করে এর আয় নিজের নামে করা ফাউন্ডেশনের ফান্ডে নিয়ে যায়। এছাড়াও দোকান মালিকদের থেকে ভুয়া রশিদের মাধ্যমে নিরীহ সদস্যদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে রফিক গংদের বিরুদ্ধে। নিজেকে কখনো সংবাদিক আবার কখনো সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাধারণ সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এজন্য তারা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১১ সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমান কমিটি ২০১৮ সালের ১ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির বর্তমান কার্য্যকরী পরিষদ নির্বাচিত হয় এ কমিটি দায়িত্ব গ্রহণকালে পূর্ববর্তী কমিটি এ কমিটিকে সমিতির কোন ধরনের আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেয়নি। এমনকি কোন কাগজপত্রও প্রদান করেনি। উপরন্তু বিভিন্ন সময়ে মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে বর্তমান নির্বাচিত কার্য্যকরী কমিটির স্বাভাবিক কর্মকান্ডের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় ২০১৮ সালের ১১ মার্চ জনৈক জামান মিয়া মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি কনটেপ্ট পিটিশন নং- ১৩৩/১৮ দায়ের করে। যা মাননীয় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এবং মাননীয় বিচারপতি বদরুজ্জামান মহোদয়ের দ্বৈত বেঞ্চে রিজেক্ট করে দেয়। এতে প্রমাণিত হয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোন প্রকার অনিয়ম হয় নাই-উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। উক্ত রায় জামানের অনুকুলে না যাওয়ায় মুন্নু জাহান বাদী হয়ে আরেকটি রিট পিটিশন (নং- ৩৭৩৪/২০১৮) দায়ের করেন। উক্ত রীট পিটিশনটি গত ১৯/০৩/২০১৮ইং তারিখে মাননীয় বিচারপতি জাফর আহমদ এর দ্বৈত বেঞ্চে রিজেক্ট হয় বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয় রীট পিটিশন গুলির কথা গোপন রেখে উক্ত জামান মিয়া মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে আরেকটি রীট পিটিশন (নং-৫৪৩৮/২০১৮) দায়ের করেন। গত ১৮/৪/২০১৯ইং তারিখে মাননীয় হাইকোর্ট, রিট পিটিশন নং- ৫৪৩৮ এর আদেশে বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি মোঃ কামরুল আলম এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে উক্ত রিট পিটিশনের রুল ডিকচার্জ করেন এবং মামলার বাদী জামান মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। উক্ত জামান মিয়া সাধারণ সদস্য ও দোকান মালিকদেরকে প্রতারিত করার কারণে ইতিমধ্যে কয়েকজন সাধারণ সদস্য ও দোকান মালিক তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে জামান মিয়াগং আরো বেপেরোয়া হয়ে উঠেছে বলে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয় সংবদা সম্মেলনে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: