বনভোজনে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল শিক্ষার্থী সাদিয়া আলম যুথী


স্টাফ রিপোর্টার( নিউজ বন্দর ২৪) :বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষা সফরে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিয়া আলম ঝুঁথি। গত রবিবার সকালে বন্দর গার্লস স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির আয়োজনে বন্দর থেকে গাজীপুর সাফারী পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে আকস্মিকভাবে অসুস্থতার পরই সে মৃত্যুবরন করে।
এদিকে ঝুঁথির অকাল মৃত্যুতে বন্দর উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঝুঁথির মৃত্যুতে বন্দর গার্লস স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি চরম অবহেলা ও শিক্ষা সফরের নামে অর্থ বানিজ্যকে দায়ী করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
জানা যায়,বন্দর আমিন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা শ্রমিক নেতা এসটি আলমগীরের ভাতিজি ও ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সরকারের ছোট মেয়ে বন্দর গার্লস স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিয়া আলম ঝুথি। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী ঝুথির বড় বোন জাকিয়া আলমসহ ২’শ শিক্ষার্থী ও ৫০ জন শিক্ষক গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে শিক্ষা সফরে যায়। গত রবিবার সকাল ৮ টায় বন্দর গার্লস স্কুল থেকে তারা গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
বেলা পৌনে ২টায় ঝুঁথি তার বড় বোন জাকিয়াকে জানায় সে আর হাটঁতে পারবেনা। পা ব্যাথা করছে। তারপর তারা শিক্ষকদের জানালে তারা একটি রুমে গিয়ে বিশ্রামের জন্য বলে।
নিহতের বড় বোন জাকিয়া আলম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান,বেলা আড়াইটায় দুপুরের খাবার দেয়া হয়। খাবারের পর র‌্যাফেল ড্র হতে থাকে। ঝ্ুঁথির মাথা ব্যাথা বেড়ে যায়। বেলা সাড়ে ৪টায় গাড়িতে উঠতে বললে উঠতে পারেনা। প্রসাব করে দেয়। সিএনজিতে তুলে বাবাকে ফোন দেয় শিক্ষকরা। তারা একটি ক্লিনিকে নেয়। সেখান থেকে বলা হয় সদর হাসপাতাল বা ঢাকায় হাসপাতালে নিতে। ধীরে ধীরে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। পরে চিকিৎসকরা ওর শরীরে থাকা গয়না খুলে আমার হাতে দেয়। আমি বার বার বলি আমার বোন কথা বলছেনা কেন? ওর কি হয়েছে। শিক্ষকরা আমাকে বলে ওর খুব জ্বর। মৃত্যুর কথা তখনো কিছু বলে না। কাপড় দিয়া ডেকে রাখে। রাত ৯.৫৪ মিনিটে আমার বাবা হাসপাতালে পৌছলে তখন বলে আমার বোন মারা গেছে। আমার ছোট বোন ঝুঁথি ২০১৮সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ও খুব মেধাবী ছিল। একথাগুলো বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
এদিকে ঝুঁথির অকাল মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেনা ঝুঁথির সহপাঠী ও এলাকাবাসী। রাত সোয়া ১২ টায় এম্বুলেন্স করে ঝুঁথির লাশ বন্দর আমিন এলাকায় পৌছলে স্বজন,সহকর্মী ও এলাকাবাসীর কান্নাঁয় আকাশ ভারী হয়ে উঠে।
জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, গাজীপুর সাফারী পার্ক এত দুরের পথ। উৎসব পরিবহন কেন ভাড়া করা হলো। বন্ধন,হিমাচল,শীতল পরিবহন নিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা একটু আরামে গাঁ হেলান দিয়ে যেতে পারতো। শিক্ষা সফর মুলত হয় শীতকালে জানুয়ারী,ফেব্রুয়ারী মাসে কেন? গরমের সময় এত দুরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নেয়া বানিজ্য ছাড়া কিছুই নয়।
সকাল ৮টায় বন্দর আমিন আল আমিন জামে মসজিদে প্রথম জানাযা নামাজ শেষে গ্রামের বাড়ী আলীরটেক ইউনিয়নের আলীরটেক মাদ্রাসায় সকাল ১০টায় ২য় জানাযা শেষে লাশ দাফন করা হয়।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: