চাদাবাজীর অভিযোগে টিআরএস-আমিনা ওরফে ডিস বাবু আটক


স্টাফ রিপোর্টার (নিউজ বন্দর ২৪) : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১৭নং ওয়ার্ড প্রভাবশালী কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবুকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ডিশবাবু পাইকপাড়া শাহসুজা রোডের মৃত আ.গফুর মিয়ার ছেলে।

বন্দরের মদনগঞ্জ উত্তর পাড়ার রেললাইন দক্ষিণ কলাবাগস্থ বারেক মিয়ার এর বাড়ির ভাড়াটিয়া মো.কাউসার ডিশবাবুর বিরোদ্ধে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন । যার মামলা নং-৩২। এর ভিত্তিতেই ডিশবাবুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জানা গেছে, ডিসবাবুর পক্ষে আদালতে কোন আইনজীবী জামিন আবেদন না করায় আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ডিশবাবুকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এরআগে চাঁদাবাজির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় সদর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল করিম ওরফে আমিনা বাবু টিআরএস বাবু (৫০) দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ শহরে কেবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করে আসছে। বিবাদী জোরপূর্বক বন্দরে তাহার লোকজন দিয়ে কবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা পরিচালনার চেষ্টা করছিলো। বিভিন্ন জায়গায় কেবল নেটওয়ার্কের তার কেটে ফেলে তার নিজেস্ব নেটওয়ার্ক লাইন সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্দর কেবল নেটওয়ার্কের সত্ত্বাধিকারী পারভেজ আলম এবং মো.সাইফুল ইসলাম (শ্যামল) এর সাথে ডিশবাবুর দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিলো। নেটওয়ার্কের ব্যবসার জন্য এলাকার দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বন্দর কেবল নেটওয়ার্কের মালিকের নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

এরই জেরে গত ১৭ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বন্দরের ফরাজিকান্দা বাজারের রিতুর বাড়ির সামনের নেটওয়ার্কের মেরামত কাজ করা কালে আসামী আমিনা বাবুর প্ররোচনায় সহযোগিতায় ও নির্দেশে মো.সজিব (৩৫), মো. রিতু (৩২), মো. রনি (৩৪), মো.জুম্মাল (৩৪), নিজুম, রানা (৩৫) সহ আরো অজ্ঞাত নামা ৪/৫ জন বিবাদী লাঠি-সোঠা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেআইনী জনতাবন্ধে পথরোধ করে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে এবং নগদ ১০ হাজার ৫০০ টাকা, একটি ফাইভার মেশিন যার মূল্য-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও একটি মই নিয়ে যায়। এছাড়াও তার বিরোদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শাহসুজা আমিনা মঞ্জিলেই বেপরোয়া ভাবে বেড়ে উঠে আব্দুল করিম ওরফে ডিস বাবু। তার মায়ের নাম আমিনা বেগম ও আমিনা মঞ্জিলের সন্তান। তাই তাকে আমিনা বাবু ও টিআরএস বাবু বলে সবাই ডাকত। ধীরে ধীরে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে জোরপূর্বক ভাবে গড়ে তুলে ক্যবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা। এতোদিন ডিশবাবুর বিরোদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করতোনা। কেউ এলাকায় মুখ খুললেই তাকে নানাভাবে হয়রানি করতো ডিশবাবু। ডিশবাবুর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তারা। যেকোন সময় হুটহাট করে এলাকায় মহড়া দিয়ে চারপাশে ভীতিকর পরিস্থিতি


এছাড়া ডিশবাবু সদর মডেল থানার আরো তিনটি মামলার সিএস ভুক্ত আসামী। এর মধ্যে একটি মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী দেলোয়ার হোসেন ওরফে ছোট দেলু ও ঝন্টু দুজনই ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ আদালতে আব্দুল করিম বাবু (ডিস বাবু) ওই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: