চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ:৯ দিন পর উদ্ধার,গ্রেফতার-১

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এক কিশোরীকে (১৬) চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে অপহরণকারী একটি চক্রের হোতার বিরুদ্ধে। পরে ওই কিশোরীকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানোরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঢাকার উত্তর মুগদা মদিনাবাগের একটি বাসা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ঐ কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ সময় হেলেনা বেগম (৪২) নামে একজন নারীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরীর দুলাভাই বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় অপরহণকারী চক্রের মুল হোতা মনির হোসেন জামালসহ (৩৮) তার সহযোগীরা পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগম পিরোজপুর জেলার মটবাড়ীয়ার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের তাহের মৃধার মেয়ে এবং বাবুল সরদারের স্ত্রী। অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা মনির হোসেন জামাল বরগুনার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের উলা পদ্মা (বাবুগঞ্জ) গ্রামের ইউসুফের ছেলে।
কিশোরীর পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঐ কিশোরী গত ২৫ জুন সকালে চাকুরীর উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত আদমজী ইপিজেড এলাকায় যায়। সেখান থেকে বেলা ১১টায় মনির চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ঐ কিশোরীকে ঢাকার উত্তর মুগদা মদিনাবাগ এলাকার আব্দুল জব্বারের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে হেলেনা বেগমের সহযোগিতায় মনির হোসেন জাামাল কিশোরীটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে হেলেনা বেগম ও মনিরের যোগসাজসে বিভিন্ন সময়ে ঐ কিশোরীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাতে বাধ্য করে। ধর্ষিতার আত্মীয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে ঐ বাসা থেকে কিশোরীটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পলাতক অন্যান্য আসামীরা হল- নানা ওরফে কারফু (৫২), পনির (৪০), নাঈম (৩৫), ইমন (৩২), মাজহারুল (৪৮) ও দেবাশীষ (৩২)।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ শামীম হোসেন জানান, অপহরণের পর ধর্ষণ ও নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামী হেলেনা বেগমকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগমসহ পলাতক আসামীরা একটি অপহরণকারী চক্র। চক্রটি চাকুরীপ্রার্থী মেয়েদের কৌশলে অপহরণ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে পতিতাবৃত্তি করায় বলে গ্রেফতারকৃত হেলেনা বেগম প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: