কাশীপুরে শফিউল্লাহ শফি ও শাহীন গ্রুপের সংঘর্ষ আহত-৪

ফতুল্লা প্রতিনিধি: ফতুল্লা থানাধীন কাশীপুর আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি অনেকটা নিয়েন্ত্রনে নিয়ে এসেছে।
হামলায় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি ও তার পুত্র খায়রুল্লাহ সনমসহ চার জন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উত্তর কাশীপুর এলাকায় এঘটনা ঘটে। হামলায় আহত শফি ও তার পুত্র সনম নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানাগেছে, দুপুর ১টায় ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক শফিউল্লাহ শফি ও কাশীপুর ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহীন আলমের সাথে বাকবিতর্ক হয়। এক পর্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শফি ও তার পুত্র সনমসহ শাহীন গ্রুপের সৈকত ও কবির নামে দুইজন আহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরো জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরেই শফি ও শাহীন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। অতীতে তারা এক সাথে রাজনীতি করলেও গত কয়েক বছর আগে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। একে অপরকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে থানা আওযামীলীগের সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম. সাউফুল্লাহ বাদল বার বার মিমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা না করার কারণেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এছাড়াও গত রমজানে শাহীন আলমকে বেকায়দায় ফেলতে ফতুল্লা মডেল থানা বিশেষ এক ব্যক্তির সহযোগীতায় চাঁদাবাজী মামলা করেন শফি। ঐ মামলায় ১০দিন কারাভোগ করেন শাহীন আলম। এতেই ক্ষিপ্ত হন শাহীন আলম। অত:পর শুক্রবার এই ক্ষোভের কারণেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এব্যাপারে শফি জানান, দেড় মাস আগে শাহীন আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছিল। এর প্রেক্ষিতে আমি মামলা করেছি। মামলায় জামিনে এসে আমার উপর এই হামলা চালিয়েছে।
শাহীন আলম জানান, আমি মানুষের কল্যানে রাজনীতি করি। তাই স্থানীয় সাধারণ মানুষ আমাকে ভালবাসে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে শফি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজীর মামলা করেছে। মামলায় আমি জেলও খেটেছি। তবুও শান্ত ছিলাম। কিন্তু শুক্রবার আমাকে দেখে উস্কানীমূলক মন্তব্য করে শফি। সেই সূত্রেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিবেশ এখন শান্ত আছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলছে।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

%d bloggers like this: